রান্নাঘরের টুকিটাকি

  • ঠান্ডা ভাত গরম করতে হলে ডিশে পানি চড়িয়ে তাতে লবণ দেবেন। পানি ফোটামাত্র ঠান্ডা ভাত ঢেলে একটু ফুটিয়ে নামিয়ে মাড় গেলে ফেলবেন। তাতে ভাত ঝরঝরা হবে।
  • কাঁচা মুগ ডাল ভেজে পানিতে ধুয়ে নিলে ডালের রং কালো হয় না, না ধুলে ডালের কুড়া ভাজা হয়ে কালো রং হয়। ডালের সঙ্গে কুড়া থাকলে ডালের রং উজ্জ্বল হয় না।
  • ভাজা মুগ পানিতে রান্না করার পর কেমন যেন কালচে ফ্যাকাসে লাগে। ভাজা সোনামুগ ডালে সে আগের রং দেখা যায় না। ডাল বাঘার দেওয়ার সময় ফোড়ন পুড়ে এলে সমান ১ চামচ চিনি দিয়ে নাড়তে থাকুন। চিনি গলে লাল ফেনা হয়ে উঠার সঙ্গে সঙ্গেই সেদ্ধ ডাল ঢেলে, নেড়ে মিশিয়ে দিন। মরিচবাটা, হলুদবাটা না দিয়েও সোনামুগের ডালের সুন্দর রং হবে। ছোলার ডালেও কোন বাটা মসলা না দিয়ে শুধু চিনি পুড়িয়ে এই রকম করে দিলে সুন্দর রং হবে।
  • শসা কাটার সময় শসার বোঁটার দিকে চাকা করে কেটে সেই চাকাটি শসার কাটা জায়গায় গোল করে ঘষতে থাকলে ফেনা ফেনা মতো বের হবে। এটা শসার তিতা কষ। যদি শসা তিতা স্বাদের হয়, এই কষ বের করলে তিতা কম লাগে। শসার মাথার দিক থেকে বোটার দিকে লম্বালম্বি খোসা ছাড়াবেন। এতে তিতা কম লাগে।
  • কাঁচামরিচ বড় মুখের বোতলে বা প্লাস্টিকের থলেতে রেখে ভালো করে বদ্ধ করে রাখরে ২-৩ দিন বেশ টাটকা থাকে।
  • ১ চা চামচ বেকিং পাউডারের বদলে ১/৪ চা চামচ সোডা ও ১/২ চা চামচ ক্রিম অফ টার্টার মেশালে ফল হবে।
  • ব্রেড ক্রাম্বের গুঁড়ো কর্নফাওয়ার, সুজি ব্যবহার করা যায়।
  • কাঁঠাল কাটার আগে আস্ত কাঁঠাল পানিতে ডুবিয়ে ১৪/১৫ মিনিট সেদ্ধ করে কিছুটা ঠান্ডা হলে রান্নার জন্য পছন্দমতো কেটে নিন। কাঁঠালের আঠার ঝামেলা থাকবে না।
  • লবঙ্গ রান্নায় দেওয়ার আগে ফুল ফেলে দিবেন। লবঙ্গের ফুলে অনেক সময় তরকারি তিতা স্বাদের হয়ে যায়।
  • মাছ ভাজা হলে কিংবা রসুন বেশি ব্যবহার করলে পুরো বাড়িতেই দুর্গন্ধ ছড়ায় তাই রান্না শুরুর আগে একটা বাটিতে ভিনেগার ঢেলে চুলার কাছেই রাখুন। এটি গন্ধ শুকানোর পক্ষে আদর্শ।
  • ভাত, ডাল, দুধ উথলে পড়ে প্রায়ই চুলা নোংরা হয়। এক্ষেত্রে চুলা পরিষ্কারের জন্য প্রথমেই চুলার ওপর লবণ ছড়িয়ে দিন। চুলা ঠাণ্ডা হলে গরম সাবান পানিতে কাপড় ভিজিয়ে জায়গাটি মুছে নিন।
  • রান্নাঘর আর খাবার ঘরে মাছির উপদ্রব এড়াতে নিপপাতার গোছা কয়েকটি স্থানে রেখে দিন।
  • ফ্রিজে প্রায়ই দুর্গন্ধ হয়। এ অবস্থায় ফ্রিজে খাবার রেখে দেওয়াটা অস্বাস্থ্যকর। ফ্রিজের খাবার ঢেকে রাখুন।
  • ফ্রিজে অনেক সময় অগোচরে সবজি পচে দুর্গন্ধ হয়। আর তাই এদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রতি সপ্তাহে একবার ফ্রিজ পরিষ্কার করা উচিত।
  • ফ্রিজ পরিষ্কার করার পর অনেকক্ষণ ফ্রিজের দরজা খোলা রাখুন। তারপর ফ্রিজে বেকিং সোডা রেখে ফ্রিজের দরজা বন্ধ করুন। প্রয়োজনে দুই চার দিন পরপর বেকিং সোডা পাল্টে দিন।
  • ফ্রিজে খুব বেশি দুর্গন্ধ হলে সাবান পানিতে ফ্রিজ পরিষ্কার করে সাদা ভিনেগার একবার কাপড়ে ভিজিয়ে ফ্রিজ আবার মুছে নিন। এরপর বেশ খানিকক্ষণ খোলা রাখুন ফ্রিজ। তারপর ফ্রিজে বেকিং সোডা রেখে ফ্রিজ বন্ধ করুন।
  • রান্নাঘরের সিংক কিংবা বেসিনের মুনোনা জিনিস আটকে প্রায়ই পানি জমে যায়, দুর্গন্ধ হয়। সে ক্ষেত্রে বাড়িতে ব্যবহার করা যায় এমন ব্লিচ দুই কাপ ঢেলে দিন সিংক কিংবা বেসিনের মুখে। এরপর একঘণ্টা ওভাবে রেপোনি ঢেলে দিন। দেখবেন সিংক কেমন পরিষ্কার হয়ে গেছে।
  • আজকাল অনেকেই গাছ দিয়ে ঘর সাজায়। আপনি আপনার রান্নাঘরের অব্যবহৃত কোন একটি কোণে রাখতে পারেন। কোন সাকুলেন্ট কিংবা বনসাই গাছ। আপনার রান্নাঘর হয়ে উঠবে অনেক স্বতন্ত্র ও নান্দনিক।
Scroll to Top