১১
আগ

হোটেলের মতো কাঁচা পেঁপের বাগারি ভুনা ভর্তা

কাঁচা পেঁপে, আমাদের দেশে সবখানেই মোটামিুটি সারা বছরই পাওয়া যায়। আমাদের শরীরের জন্য পেঁপে ভীষণ উপকারী একটি সবজি, আবার ফল হিসেবেও পাকা পেঁপের ভুমিকা কম না। তাই পুষ্টিবিদরা এই সবজিটাকে ন্যাচারাল মেডিসিন উপাধি দিয়ে থাকেন।

পেঁপের গুনাবলি আসলে বলে শেষ করা যাবে না। হৃদরোগ ও ডায়বেটিস রুগীদের উপকারে তো আসেই, সেই সাথে পেঁপে শরীরের ক্যালরি বার্ণ করতে ও ওজন নিয়ন্ত্রণে আনতে অনেক কাজে দেয়। পেঁপের গুণাবলির কথা তো বলে শেষ করা যাবে না, চলুন অসাধারণ এই যাদুকরি শবজিটা দিয়ে হোটেলের মতো করে দারুন স্বাদের একটা ভর্তা তৈরী করে ফেলি।

তৈরী করতে লাগছে –

  1. মাঝারি সাইজের ১ টি কাঁচা পেঁপে
  2. হলুদের গুঁড়ি ০.২৫ চা চামুচ
  3. রান্নার তেল ২ টেবিল চামুচ (চাইলে সরিষার তেল ব্যবহার করতে পারেন)
  4. পিঁয়াজ কুচি ০.৫ কাপ
  5. রসুন কুচি ১ টেবিল চামুচ
  6. তেজ পাতা ১ টি
  7. পাঁচ ফোড়ন ১ চা চামুচ
  8. কাঁচা মরিচ ৪/৫ টি
  9. ডিম ১ টি
  10. লবণ ১ চা চামুচ
  11. সামান্য ধনে পাতা কুঁচি

পেঁপে খুবই উপকারী একটি সবজি বা ফল আমাদের শরীরের জন্য। বাংলাদেশের সব জায়গায় পেঁপে সারা বছরই কম বেশি পাওয়া যায়। পেঁপে একদিকে যেমন সবজি, অন্যদিকে ফল। কাঁচা থাকতে পেঁপে সবজি-ভর্তা, ভাজি আর রান্না করে খাওয়া যায়। আর পাকলে পেঁপে হয়ে যায় সুস্বাদু ফল। অতিপরিচিত পেঁপের আরেকটি নামও কিন্তু আছে, নামটি হলো অমৃততুন্বী।

১০০ গ্রাম পেঁপেতে শর্করা থাকে ৭.২ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৩২ কিলোক্যালরি, ভিটামিন সি ৫৭ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ৬.০ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৬৯ মিলিগ্রাম, খনিজ ০.৫ মিলিগ্রাম এবং ফ্যাট মাত্র ০.১ গ্রাম।

এই উপাদানগুলো শুধু শরীরের চাহিদাই মেটায় না, রোগ প্রতিরোধেও অংশ নেয়। চলুন জেনে নিই কাঁচা পেঁপের কয়েকটি উপকারিতা-

  • হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়
  • অতিরিক্ত ক্যালরি ও চর্বি কমিয়ে দেয়
  • ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ফল পেঁপে
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে
  • ব্যথা নিরাময় করে
  • ত্বকের যত্নে

সংক্ষেপে আরো কিছু উপকারিতা —

  1. কাঁচা পেঁপে শরীরের জন্য খুব উপকারী। এতে রয়েছে প্রোটিওলাইটিক এনজাইম। এই উপাদানটি প্রটিন হজম করতে সাহায্য করে। ক্যান্সার নিরাময়েও ভূমিকা রাখে , এই জন্য পেঁপে রান্নার পরিবর্তে কাঁচা খাওয়াটাই উত্তম।
  2. কাঁচা পেঁপে খেলে মেদ কমে এতে কোনো খারাপ কোলস্টেরল, চর্বি বা ফ্যাট নেই। মোটা মানুষ দুশিন্তা মুক্ত হয়ে খেতে পারেন।
  3. কাঁচা পেঁপে আমাদের দেহের সঠিক রক্ত সরবরাহে কাজ করে। আমাদের দেহে জমা থাকা সোডিয়াম দূর করতে সহায়তা করে যা হৃদপিণ্ডের রোগের জন্য দায়ী। নিয়মিত পেঁপে খেলে উচ্চ রক্ত চাপের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এতে করে হৃদপিণ্ড জনিত যে কোনো সমস্যার সমাধান হয়।
  4. কাঁচা পেঁপে কোষ্ঠকাঠিন্যের মহৌষধ হিসেবে কাজ করে। কাঁচা পেঁপে এবং কাঁচা পেঁপের বীচির মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি অ্যামোবিক এবং অ্যান্টি প্যারাসিটিক উপাদান যা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম। এছাড়াও হজমের সমস্যা, বুক জ্বালাপোড়া, গ্যাসের সমস্যা, পেটে ব্যথা ইত্যাদি সমস্যা সমাধানেও কাঁচা পেঁপের জুড়ি নেই।
  5. পেঁপেতে থাকে প্রচুর পরিমাণ পেপসিন। এই পেপসিন হজমে সাহায্য করে। কাঁচা পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণে পেপেইন নামক হজমকারী দ্রব্য থাকে। অজীর্ণ,কৃমি সংক্রমণ, আলসার, ত্বকে ঘা, কিডনি ও ক্যান্সার নিরাময়ে কাজ করে। পাকা পেঁপে ফল ও কাঁচা পেপে সবজি হিসেবে খাওয়া যায়। পেঁপে কাঁচা কী পাকা, দুটোতেই পুষ্টি গুণে ভরপুর।
  6. ত্বকের যত্নে পেঁপে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ ফল, তাই ত্বকের লাবণ্য ও উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে। প্রতিদিন পাকা পেপের সাথে মধু ও টকদই মিশিয়ে লাগালে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।
  7. ব্রণের সমস্যা প্রায় সবারই থাকে। এসব ব্রণের কারণে মুখে আনেক ধরনের দাগ তৈরি হয়। এই বাজে দাগগুলো নিরাময় করতে পারে সুমিষ্ট এই ফলটি। মুখের অন্যান্য যেকোনো দাগ যেমন মেছতা, ফুস্কুরির দাগও খুব সহজেই দূর করে দিতে পারে।মুখের বিভিন্ন দাগ দূর করার পাশাপাশি পেঁপে ফলটি মুখের উজ্জ্বলতাও ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে।
  8. অপথ্যালমোলজি আর্কাইভস প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রতিদিন তিনবার পেপে খেলে চোখের বয়সজনিত ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। বয়স্কদের মধ্যে দৃষ্টি ক্ষতি প্রাথমিক কারণ, প্রতিদিনের খাবারে তলনামূলক ভাবে কম পুস্টি গ্রহণ করা।
  9. পেঁপে আপনার চোখের জন্য ভাল এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন এ, সি, ও ই এর উপস্থিতির কারণে।

✔ লেখা: https://bdhealth.org/ সাইট থেকে নেয়া হয়েছে

তৈরী করার অভিজ্ঞতা আমাদের ফেসবুক গ্রুপে শেয়ার করতে ভুলবেন না। শেয়ার করে আপনিও জিতে নিতে পারেন একটি সুন্দর উপহার।