০২
এপ্রিল

সরিষা সজনার চচ্চড়ি

সজনা, সজনে, বা সজনা ডাটা, যে নামেই ডাকেন না কেনো, আমাদের দেশে বছরে মাত্র কয়েক সপ্তাহ পাওয়া যায় অসাধারণ এই সবজিটি। সজনা তো অনেকভাবেই খাওয়া যায়, আমি খুব সহজভাবে বিশেষ করে নতুন রাধুঁনীদের জন্য তৈরী করে দেখাচ্ছি অসাধারণ স্বাদের সরিষা সজনার চচ্চড়ি। আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী প্রচুর ভিটামিন এবং মিনারেল সমৃদ্ধ এই সজনার উপকারিতা সম্পর্কে আরও জানতে ভিডিও দেখা শেষ হলে ডেসক্রিপশন বক্স দেখে নিতে ভুলবেন না। এভাবে সজনা রান্না করলে ভাত খাওয়ার জন্য অন্য তরকারির অপেক্ষা করবে না!

তৈরী করতে লাগছে –

  1. সজনা ০.৫ কেজি (কাটা ছেলার আগের ওজন)
  2. সরিষা বাটা ১ টেবিল চামুচ
  3. আলু ২৫০ গ্রাম
  4. টমেটোর ফালি কয়েকটি (আমি ২ টি টমেটো দিয়েছি)
  5. পিঁয়াজ কুচি ০.৫ কাপ
  6. কাঁচা মরিচ ৭/৮টি
  7. লবন ১ টেবিল চামুচ
  8. হলুদের গুঁড়ি ০.২৫ চা চামুচ
  9. ধনে গুঁড়ি ০.৫ চা চামুচ
  10. জিরা গুঁড়ি ০.৫ চা চামুচ (টেলে নেয়া না)
  11. রান্নার তেল ২/৩ টেবিল চামুচ

✔ সজনার মধ্যে কমলার চেয়ে সাত গুণ বেশি ভিটামিন সি, দুধের চেয়ে চার গুণ বেশি ক্যালসিয়াম ও দুই গুণ বেশি প্রোটিন, গাজরের চেয়ে চার গুণ বেশি ভিটামিন এ এবং কলার চেয়ে তিন গুণ বেশি পটাশিয়াম বিদ্যমান। ফলে এটি অন্ধত্ব, রক্তস্বল্পতা সহ বিভিন্ন ভিটামিন ঘাটতি জনিত রোগের বিরুদ্ধে বিশেষ হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।

✔ সজনাতে প্রায় ৯০টিরও বেশি এবং ৪৬ রকমের এন্টি-অক্সিডেন্ট বিদ্যমান।

✔ এতে ৩৬ টির মত এন্টি-ইনফ্ল্যামমেটরি বৈশিষ্ট্য আছে। এছাড়াও এটি অকাল বার্ধক্যজনিত সমস্যা দূর করে এবং ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

✔ এতে প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক থাকে এবং পালংশাকের চেয়ে তিন গুণ বেশি আয়রণ বিদ্যমান, যা এ্যানেমিয়া দূরীকরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

✔ সজনা শরীরে কোলেস্টেরল এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও অন্যতম অবদান রাখে।

✔ মানুষের শরীরের প্রায় ২০% প্রোটিন যার গাঠনিক একক হলো এমাইনো এসিড। শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মেটাবোলিজম এবং অন্যান্য শারীরবৃত্ত্বীয় কার্যাবলী পরিপূর্ণরূপে সম্পাদনে এমাইনো এসিড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। মানুষের শরীরের যে ৯ টি এমাইনো এসিড খাদ্যের মাধ্যমে সরবরাহ করতে হয়, তার সবগুলোই এই সজনার মধ্যে বিদ্যমান।

✔ এটি শরীরে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ডায়াবেটিসের মত কঠিন রোগের বিরুদ্ধে কাজ করে থাকে।

✔ এটি শরীরের হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে পুষ্টিবর্ধক হিসেবে কাজ করে।

✔ এটি মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই এবং একজন মায়ের প্রতিদিনের আয়রণ এবং ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করে থাকে।

✔ এটির এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এটি যকৃত ও কিডনী সুস্থ্য রাখতে এবং রূপের সৌন্দর্য বর্ধক হিসেবেও কাজ করে থাকে।

তৈরী করার অভিজ্ঞতা আমাদের ফেসবুক গ্রুপে শেয়ার করতে ভুলবেন না। শেয়ার করে আপনিও জিতে নিতে পারেন একটি সুন্দর উপহার।