১৮
নভে

আমলকির একের ভিতরে তিন আচার

সিজন বদলের সময় বিভিন্ন ধরণের রোগ বালাই আমাদের পেছনে লেগেই থাকে, আর তখন কোনো কিছু খাওয়ারও কিন্তু রুচি থাকে না। মুখে রুচি ফিরিয়ে আনার জন্য আমলকির কোনো বিকল্প নেই। এটা আমার কথা না, এটা শত বছর ধরে মানুষ মেনে আসছে। ঝামেলা হলো এই আমলকি খুব অল্প সময়ের জন্য বাজারে পাওয়া যায়। আর রসে ভরা বড় বড় আমলকি পাওয়ার যায় আরও কম সময়ের জন্য। তবে আমরা যদি এই আমলকি দিয়ে একটা আচার তৈরী করে ফেলি, তাহলে খেতে পারবো বছর জুড়ে।

তৈরী করতে লাগছে –

  1. আমলকি ১ কেজি
  2. তেঁতুল ১০০ গ্রাম
  3. রসুনের কোয়া ১৫-২০ টি (বেশী দিলে বেশী ভালো লাগবে)
  4. ACI Pure আচারের মসলা ১ প্যাকেট
  5. ACI Pure পাঁচ ফোড়ন ১ টেবিল চামুচ
  6. সাদা ভিনেগার –
    • তেঁতুল ভেজাতে ০.৫ কাপ
    • আমলকি মাখাতে ০.২৫ কাপ
  7. চিনি ০.৫ কাপ
  8. লবণ –
    • আমলকি মাখাতে ১ টেবিল চামুচ
    • রান্নার সময় ১ চা চামুচ

ঘরে চিলি ওয়েল ও চিলি ফ্লেক্স তৈরী করা শিখতে এই ভিডিওটি দেখুন

✔ আচারটি রান্নার পরে ঠান্ডা করে রুম টেম্পারেচারে এনে বৈয়মে করে সংরক্ষণ করতে হবে। এমন বৈয়ম বা পাত্র ব্যবহার করবেন, যেটায় বাতাস ঢোকে না।

✔ কাঁচ ছাড়াও আপনারা প্লাস্টিকের বৈয়মে বা এয়ার টাইট বাক্সে আচার করতে পারবেন, সেইক্ষেত্রে BPA Free প্লাস্টিকের বৈয়ম/বাক্স নেবেন। এই বিষয়ে দোকানদারের সাথে কথা বলে নিতে পারেন।

আচার বেশীদিন ভালো রাখতে চাইলে এই প্রসেসগুলি ফলো করুন –

  • 🚫 যে কোনো আচার কখনো হাত দিয়ে ধরবেন না।
  • 🚫 আচারে কখনো ভেজা চামুচ ঢোকাবেন না।
  • 🚫 খাওয়ার জন্য আচার বের করেছেন, কিন্তু খেয়ে শেষ করতে পারেন নাই, সেটা আবার বৈয়মে ঢুকিয়ে রাখবেন না। বরং আলাদাভাবে ফ্রিজে রেখে দিন, পরে খেয়ে ফেলুন।
  • 🚫 আচার যে চামুচ দিয়ে তুলবেন, সেটা হাত দিয়ে ধরলে বা মুখে দিলে আবার আচারে ঢোকাবেন না।
  • 🚫 আচারে অন্য ব্যবহারি চামুচ ঢোকাবেন না। যেমন তরকারির ঝোল ওয়ালা চামুচ ঢোকাবেন না।
  • 🚫 আচার তেলের নীচে থাকলে আর ফ্রিজে রাখার দরকার হয় না।
  • 🚫 ফ্রিজে আচার রাখলে, বৈয়ম ফ্রিজে রেখেই ঢাকনা খুলে খাওয়ার জন্য অন্য বাটিতে পরিবেশন করে নিয়ে ঢাকনা বন্ধ করলে আচার বেশী ভালো থাকে। আচারের বৈয়ম যখন ফ্রিজ থেকে বের করে বাহিরে নেবেন, বাতাসের আর্দ্রতায় ঠান্ডা বৈয়ম ও আচার ঘেমে যাবে, পরে ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখলে ঐ আর্দ্রতার পানিতেই আচারে ছত্রাক চলে আসবে।

আমলকি খাওয়ার উপকারিতা –

  • আমলকী ত্বক, চুল ও চোখ ভাল রাখার জন্য উপকারী। এতে রয়েছে ফাইটো-কেমিক্যাল যা চোখের সঙ্গে জড়িও ডিজেনারেশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
  • আমলকী হজমে সাহায্য করে ও স্টমাক এ্যাসিডে ব্যালেন্স বজার রাখে।
  • আমলকী লিভার ভাল রাখে, ব্রেনের কার্যকলাপে সাহায্য করে ফলে মেন্টাল ফাংশনিং ভাল হয়।
  • আমলকী ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রেখে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। কোলেস্টেরল লেভেলেও কম রাখাতে যথেষ্ট সাহায্য করে।
  • হার্ট সুস্থ রাখে, ফুসফুসকে শক্তিশালী করে তোলে।
  • শরীর ঠান্ডা রাখে, শরীরের কার্যৰমতা বাড়িয়ে তোলে, মাসল টোন মজবুত করে।
  • লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা বাড়িয়ে তুলে দাঁত ও নখ ভাল রাখে।
  • জ্বর, বদহজম, সানবার্ন, সানস্ট্রোক থেকে রৰা করে।
  • আমলকী দৃষ্টি শক্তি ভালো রাখার জন্য উপকারী। ছানি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। ব্রণ ও ত্বকের অন্যান্য সমস্যায় উপকারী।
  • পেটের জ্বালা জ্বালাভাব কম রাখে। লিভারের কার্যকলাপে সাহায্য করে, পাইলস সমস্যা কমায়।
  • শরীরের অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে।
  • ব্রঙ্কাইটেসও এ্যাজমার জন্য আমলকী উপকারী।
  • আমলকী ক্ষুধা বাড়াতে সাহায্য করে।
  • আমলকি চুলের টনিক হিসেবে কাজ করে এবং চুলের পরিচর্যার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি কেবল চুলের গোড়া মজবুত করে তা নয়, এটি চুলের বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। এটি চুলের খুসকির সমস্যা দূর করে ও পাকা চুল প্রতিরোধ করে।
  • আমলকির রস কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের সমস্যা দূর করতে পারে। এছাড়াও এটি পেটের গোলযোগ ও বদহজম রুখতে সাহায্য করে।
  • আমলকি নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে ও দাঁত শক্ত থাকে।
  • শরীর ঠাণ্ডা রাখে, শরীরের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে, পেশী মজবুত করে। এটি হৃদযন্ত্র, ফুসফুসকে শক্তিশালী করে ও মস্তিষ্কের শক্তিবর্ধন করে। আমলকির আচার বা মোরব্বা মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের দুর্বলতা দূর করে। শরীরের অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে।

তৈরী করার অভিজ্ঞতা আমাদের ফেসবুক গ্রুপে শেয়ার করতে ভুলবেন না। শেয়ার করে আপনিও জিতে নিতে পারেন একটি সুন্দর উপহার।